
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বিলবুড়ী (দিয়াড়া খাল) এলাকার পানি নিষ্কাশন খাল দখল করে পুকুর খননের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক দশক ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় বিলবুড়ী এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধ থাকত। পরে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিএডিসির মাধ্যমে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পানি নিষ্কাশন খাল তিন দফায় খনন করা হয়। এরপর ওই এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয় এবং কৃষকরা ব্যাপক আকারে ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসলের চাষ শুরু করেন। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাটি কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়।
তবে কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি খালের একটি অংশ দখল করে পুকুর খনন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, খালের মূল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে কয়েক হাজার একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিবছর ফসল নষ্ট হচ্ছে।
আবেদনে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সংগ্রামপুর গ্রামের মো. সালাউদ্দিন, বারোমল্লিকা গ্রামের আবুল কাশেম শেখ এবং বাওনারা গ্রামের আলতাফ হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি খালের অংশ দখল করে পুকুর খনন করায় পানি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমেও ধান, পাট ও অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, "খালটি খননের পর দীর্ঘদিন কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু খাল দখল করে পুকুর খননের কারণে এখন আবার আগের মতো জলাবদ্ধতা ফিরে এসেছে। প্রতি বছর ফসল নষ্ট হচ্ছে। আমরা ২০১৫ সালেও প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলাম, এরপরও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।"
জানা গেছে, ২০১৫ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিএডিসি এবং বালিয়াকান্দি থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনে খালের মূল মুখে বাঁধ অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়। পরে আবারও নতুন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, এসিল্যান্ড, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রশাসনের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১০ বছরেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং বর্তমানে খালের আরও কিছু অংশে পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন এবং অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা না হলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন কুমার ঘোষ বলেন, আমরা কয়েকবার করে উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এখন যারা পুকুর কেটেছে তাদের দাবি খালের জমি বাদ দিয়ে পুকুর কাটা হয়েছে। খালের যে জমির কথা বলা হচ্ছে সেটিও উচু জমি। ফলে পানি প্রবাহ হচ্ছে না। এজন্য খালটি নতুন করে কাটা হলে প্রবাহ হবে। মাঠে ফসল আবাদও হবে। আমরা খালটি কাটার জন্য উচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ করেছি।
প্রকাশকঃ তৌহিদুর রহমান তুহিন, সম্পাদকঃ লিটন চক্রবর্তী, বার্তা সম্পাদকঃ সুমন বিশ্বাস।
www.rajbariexpress.com, E-mail: info@rajbariexpress.com, WhatsApp: 01794-342424
Copyright © 2026 Rajbari Express. All rights reserved.