রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দৌলতদিয়া বরকত সরদারপাড়া এলাকায় রাতের আঁধারে ইটের দেয়াল নির্মাণ করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই জায়গায় শনিবার দিনে কোন দেয়াল ছিলো না। রবিবার সকালে দেখতে পাই ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০০২ সালে আমি জায়গাটি ক্রয় করি। ওই জায়গায় তখন বড় একটি গর্ত ছিল। বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জায়গাটির গর্ত ভরাট করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে জাহিদ সরদার, জিন্না ও ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি আমার জমির মধ্যে ইটের দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বলেন, আমরা দুইযুগ আগে ওই জমি কিনেছি। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল রাতের আঁধারে জাহিদ, জিন্না ও ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। পরে তাঁরা আমাদের জায়গায় ইটের দেয়াল নির্মাণ করেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।
স্থানীয় মো. সুজাত বলেন, গতকাল (শনিবার) ওই জায়গায় কোনো দেয়াল ছিল না। আজ সকালে এসে দেখি, সেখানে ইটের দেয়াল দিয়ে বাউন্ডারির মতো নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসলামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জায়গাটি আমার। আমি রাতের আঁধারে কোনো কাজ করিনি। দিনের বেলা দুপুরে সেখানে ইট দিয়ে দেয়াল করে বাউন্ডারি নির্মাণ করেছি। গত ১৬-১৭ বছর ধরে তাঁরা আমার জমি ভোগদখল করে আসছেন। রাতের আঁধারে জোরপূর্বক বাউন্ডারি নির্মাণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। জমির মালিকানার বিষয়ে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলিল রয়েছে।
এ বিষয়ে জিন্নার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে ইসলামের কাছ থেকে ওই জায়গাটি কেনার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকা বায়না করি। পরে জানতে পারি, ওই জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। তখন আমি ইসলামের কাছে বায়নার টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমার কাছে আরও টাকা দাবি করেন এবং জমিটি দখল করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমি তাতেও রাজি হইনি। এরপর ইসলাম তাঁর জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর সাথে জড়িত নই।
অন্যদিকে, জাহিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে জানান, এ ঘটনায় এক পক্ষ বাধা দিয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা যার পক্ষে পাওয়া যাবে, তাকে সে অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হবে। এর আগে সেখানে কোনো ধরনের বিরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে বলা হয়েছে।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।