নিজস্ব প্রতিবেদক: রিফাইন্ড বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারণা নিয়ে দলের ভেতরে কোনো আলোচনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নেই, বরং এখনো বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দল রয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তার মতো দলের অনেক নেতাও দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে দলটির মূল নেতৃত্ব কোনো ধরনের আত্মসমালোচনা বা ভুল স্বীকার করতে রাজি নয় বলে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠনের পরিকল্পনা চলছে, যার পেছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও শেখ ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে এ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এ ধরনের উদ্যোগের কথা সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো রিফাইন্ড নয়, একেবারে পিউর। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের রাজসিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় গোটা বাংলাদেশ।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের পরিশুদ্ধি নিয়ে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই। গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পরিশুদ্ধ হতে হলে দলের ভেতর থেকে পরিবর্তনের দাবি উঠতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো নেতা তাদের ভুল স্বীকার করেননি বা কোনো আত্মসমালোচনা করেননি।’
এদিকে, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে, যুক্তরাজ্যে, যুক্তরাষ্ট্রে এবং কানাডায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ওবায়দুল কাদেরের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের মধ্যেই অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা কতটা বাস্তবসম্মত বা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।