রাজবাড়ীতে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী রেলগেইট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্ত¡রে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এই পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদের উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন জেলা বিএনপির কার্যালয় হতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের রেলগেইট ঘুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক চত্ত¡রের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর পৌর বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দলের উদ্যোগে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এসময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায় রেজাউল করিম পিন্টু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক সাবেক ভিপি একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. আব্দুল মালেক খান, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড .লিয়াকত আলী বাবু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে গালগল্পের কোন সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা করা হয়েছে। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম হানী হয়েছে। ৭১’এর সাথে ২৪ এর তুলনা করা একটি শিশু সুলভ আচরণ। ৭১ থেকে সরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কিছু উঠতি বয়সের ছেলে এখন জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে যাচ্ছে। তারা আবেকের বসে অনেক কিছু বলছে। তাদের কোন কথা আমরা মন্তব্যের মধ্যে আনতে চাচ্ছি না। ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্থানের অধিনে ছিলাম। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
তিনি আরও বলেন, ২৪এর আন্দোলনকে স্বাধীনতা বলার কোন সুযোগ নেই। এটি একটি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথান। ছাত্র-জনতা অভ্যুথানে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে মাত্র। এই আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র উদ্ধাররের আন্দোলন। এখন আমরা পুরোপুরি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি। সরকার আগামি বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছে। আমরা এখনও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি থেকে সরে আসিনি। আমরা মনে করি নির্বাচনই এই দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার এক মাত্র পথ। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সেই লড়াই অব্যাহত রাখবো।