পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতির দুই ছেলে জমির মালিকানা দাবি করে ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সৈকত সংলগ্ন শুঁটকি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে বেল্লাল মোল্লা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দোকানগুলো ভাড়া নেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিজন দোকানি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা করে জামানত দেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। জমির মালিকানা দাবি করেন তিন ব্যক্তি— কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসল্লি, রাশেদুল-আফতাব ও বেল্লাল মোল্লা। দোকানিরা সমাধানের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।
এরপর, লতাচাপলী ইউনিয়ন যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসল্লি দোকানিদের নতুন করে তার সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করতে বলেন। দোকানিরা এতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াজ মুসল্লি ও তার ভাই মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মুসল্লিসহ তাদের অনুসারীরা দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এক দোকানি জানান, “আমরা সবাই বেল্লাল মোল্লার সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছি। এখন ঈদের আগে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।”
বেল্লাল মোল্লা দাবি করেন, তিনি ১৯৯৬ সালে পটুয়াখালী পৌরসভার কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী উম্মে সালমার কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন এবং বৈধ দলিল রয়েছে। তিনি বলেন, “এতোদিন কেউ জমির মালিকানা দাবি করেননি, এখন ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান দখল করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করা রাশেদুল ও আফতাব বলেন, “আমরা ১৯৭০ সালে ক্রয় করা জমির ওয়ারিশদের কাছ থেকে মালিকানা পেয়েছি এবং বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে।”
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী বলেন, “সভাপতির দুই ছেলে জোরপূর্বক ক্ষমতা খাটিয়ে এ কাজটি করেছে, যা দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তবে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসল্লি দাবি করেন, “আমার বৈধ মালিকানার দলিল রয়েছে, এবং যারা আমার সঙ্গে চুক্তি করেছে তাদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। বেল্লাল মোল্লা আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করেছিলেন।”
রিয়াজ মুসল্লি বলেন, “এ জায়গা আমার বাবার এবং আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে দোকানগুলোর তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”