পাবনা-ঢাকা রুটে বহুকাঙ্ক্ষিত ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালুর বিষয়টি আজ চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। এটি পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি এবং স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্ত। তবে এই ট্রেনটি পরিচালনা নিয়ে রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু মহল থেকে মাঝগ্রাম স্টেশন দিয়ে ট্রেনটি নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, যা ঈশ্বরদীসহ আশপাশের চারটি উপজেলার জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থমূলক কিছু দিক বিবেচনা করলে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, মাঝগ্রাম নয়, ঈশ্বরদী জংশন থেকেই ট্রেনটি পরিচালনা করা উচিত।
নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার বাস্তবতা
ঈশ্বরদীর উন্নত পরিকাঠামো: ঈশ্বরদীতে পাকশী রেলওয়ে বিভাগ, রেলওয়ে থানা এবং লোকো শেডসহ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও জনবহুল জংশন, যেখানে যেকোনো সময় স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা যায়।
মাঝগ্রামের ঝুঁকি: অন্যদিকে, মাঝগ্রাম তুলনামূলকভাবে একটি রিমোট ও জনবিরল এলাকা (যা নাটোর জেলার সীমান্তবর্তী)। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত কম থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। তাছাড়া, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতেও এ ধরনের রিমোট এলাকা ট্রেন পরিচালনার জন্য অনুপযুক্ত।
যাত্রী সুবিধা: পাবনা ও নাটোর সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ এবং মুলাডুলি, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও বড়ালব্রিজ অঞ্চলের যাত্রীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ট্রেনের মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধা পাচ্ছেন।
ঈশ্বরদী হলো পাবনা জেলার মূল হৃদপিণ্ড। মাঝগ্রামের চেয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশ করলে যাত্রীরা বহুগুণ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা পাবেন। এখানে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘোরানোসহ অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ কাজও অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর হয়।
মাঝগ্রাম দিয়ে রুট নির্ধারণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাওয়া যাবে না, ফলে ট্রেনটি লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
পাবনা জেলাকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ঈশ্বরদীর অবদান অপরিসীম। প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম এই জনপদেই পরিচালিত হয়।
ঈশ্বরদীর জনগণের উদার মানসিকতার পরিচয় এই যে, তারা কখনই সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে বলেননি যে অন্য এলাকার লোক ট্রেন ব্যবহার করতে পারবে না। অথচ আজ একটি কুচক্রী মহলের প্রভাবে ঈশ্বরদীকে বাদ দিয়ে মাঝগ্রাম দিয়ে ট্রেন চালানোর চক্রান্ত চলছে।
উপসংহার।
রেলওয়ের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম লোকসান দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাই দেশপ্রেম এবং সঠিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝগ্রামের পরিবর্তে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন থেকেই ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।