রাজবাড়ীর শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ অজয় দাস তালুকদার। নাট্যকার, লেখক, নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর ৪২তম জন্মদিনে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা অজয় দাস তালুকদার বাবার কাছ থেকেই শিল্পচর্চার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চার মাধ্যমে তাঁর সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘খেলাঘর আসর’ ও ‘জীবন সংকেত নাট্যগোষ্ঠী’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাট্যচর্চায় সক্রিয় হন তিনি।
দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পথচলায় নাটক লেখা, নির্দেশনা ও সংগঠনের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীল পরিচয় গড়ে তুলেছেন অজয় দাস তালুকদার। ২০২৩ সালে জেলা সাংস্কৃতিক সংসদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ‘দোলনচাঁপা সংগীতাঙ্গন’-এর মাধ্যমে গান রচনায় মনোনিবেশ করেন। এ পর্যন্ত তাঁর রচিত ১০টি গানের মধ্যে সাতটি গান রেকর্ড হয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘দোতারা কান্দে’, ‘নিশাদের বিশাদ’ গল্প এবং দ্বৈত নাটক ‘চন্দ্রগ্রহণ’। বর্তমানে তাঁর প্রায় ৪০টি চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত রয়েছে। এ পর্যন্ত তাঁর মোট ২৪টি নাটক প্রদর্শিত হয়েছে এবং বিভিন্ন মঞ্চে নাটকগুলো ১০০ বার পরিবেশিত হয়েছে।
নাট্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে ফরিদপুরের ‘খেয়া সাংস্কৃতিক সংস্থা’ থেকে নাট্যজন সম্মাননা লাভ করেন তিনি। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্ত আনন্দ’, যার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিল্পচর্চায় প্রাপ্তি ও সম্মাননার চেয়ে সৃজনশীলতার ধারাবাহিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন অজয় দাস তালুকদার। তাঁর ভাষায়, “প্রাপ্তির প্রত্যাশা নয়, যা আছে তা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শিল্পের সঙ্গে থাকতে চাই।”
৪২তম জন্মদিনে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং শিল্প-সংস্কৃতির পথে নিরবিচ্ছিন্ন সাফল্য কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অজয় দাস তালুকদারের সৃজনশীল কর্ম ও সাংস্কৃতিক সাধনা আগামী দিনেও রাজবাড়ীর শিল্পাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।