বিশ্ব মানবকল্যাণ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ার খোকসায় তিনদিনব্যাপী বাউল উৎসব, ভাবসঙ্গীত ও তাত্ত্বিক আলোচনা শেষ হয়েছে। উপজেলার নিশ্চিন্তবাড়িয়া গ্রামে আধ্যাত্মিক সাধক আমদ আলী সাঁইজী-এর আশ্রমে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৌতম কুমার দাশ, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
মূখ্য আলোচক ছিলেন একুশে টেলিভিশনের বিদায়ী প্রধান বার্তা সম্পাদক ও গবেষক অখিল পোদ্দার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শেখ মো. আবু জাফর।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে আশ্রমের মহাসচিব মিলন কুমার ঘোষ সাধক আমদ আলী সাঁইজী সেবা সংঘের কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সভাপতিত্ব করেন সংঘের সভাপতি আব্দুল জলিল।
সুফিবাদ ও মানবধর্ম নিয়ে আলোচনা
আলোচনায় বক্তারা সুফিবাদ, বৈষ্ণব দর্শন ও মানবধর্মের চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় উস্কানি ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সাধুসঙ্গ ও দর্শনচর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন।
মূখ্য আলোচক ড. অখিল পোদ্দার বলেন, প্রচলিত শাস্ত্র যেখানে আচার ও পুঁথিগত জ্ঞানের কথা বলে, সেখানে বাউল-ফকিরেরা দেহ সাধনা ও ‘মনের মানুষ’-এর অনুসন্ধানের কথা বলেন। এই দর্শন মানুষের ভেতরের মানবিক শক্তিকে জাগিয়ে তোলে এবং এক সমান্তরাল জীবনচর্চার পথ দেখায়।
তিনি আরও বলেন, মানবধর্ম ও সহিষ্ণুতার দর্শন ছড়িয়ে দিতে সাধক আমদ আলী সাঁইজীর উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিভিন্ন বিশিষ্টজনের বক্তব্য
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমারখালী পান্টি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস এম গোলাম আজিজ বাবু, সমাজসেবক তরুণ কুমার ঘোষ, গণেশ বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার শীল, জাহিদ বিশ্বাস, আশুতোষ বিশ্বাস, সাংবাদিক আহমেদ হোসেন বাবুসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে যখন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তখন মানবতাবাদ ও সুফিবাদের চর্চা সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভাবসঙ্গীত ও বাউল পরিবেশনা
তিনদিনব্যাপী এ উৎসবে বাউল ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন রেডিও-টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী বাউল শাহাবুল, পবন সরকার, আব্দুর রহিম, পালাকার আব্দুল কালামসহ আরও অনেক শিল্পী।
নতুন কমিটি ঘোষণা
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের সভাপতি ও মহাসচিব হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন আব্দুল জলিল ও মিলন কুমার ঘোষ। এছাড়া মানবতাবাদের পাঠশালা “স্কুল অব হিউম্যানিজম”-এর সভাপতি নির্বাচিত হন ড. অখিল পোদ্দার এবং সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মো. আবু জাফর।
মূল কমিটির কোষাধ্যক্ষ করা হয় জাহিদ বিশ্বাসকে। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন গণেশ বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম, আহমেদ হোসেন বাবু, প্রদীপ কুমার শীল, মোজাম্মেল হোসেন, ডালিম বিশ্বাস, ওয়াজেদ আলী, সুমন বিশ্বাসসহ অনেকে।
তিনদিনের অনুষ্ঠান শেষে সাধুসঙ্গ ও বাল্যসেবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাউল উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আপনি চাইলে আমি এটাকে আরও পত্রিকা স্টাইলে (শিরোনাম, উপশিরোনাম, ছোট অনুচ্ছেদ, কোটেশন ঠিক করে) সম্পাদনা করে দিতে পারি—যাতে সরাসরি পত্রিকায় ছাপানো যায়।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।