মাছ ধরা বন্ধ থাকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় বরিশালের সদর উপজেলার করকাঠি জেলেপল্লীর মৎস্যজীবীদের পরিবারে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সংকট নেমে এসেছে। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন খাদ্য, পোশাক ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
“Beyond the Shore: Fishermen, Climate Resilience & Employment” নামক একটি অ্যাকশন প্রজেক্ট টিমের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জেলেদের এই দুরবস্থার চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষণা দলের মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া জেলেদের মতে, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তারা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পান না। নিয়মিত আয় বন্ধ থাকায় তাদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী জোগাড় করা। বিশেষ করে যাদের কোনো বিকল্প আয়ের উৎস বা পর্যাপ্ত সঞ্চয় নেই, তাদের জীবনযাপন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রায় ৯-১০ জন জেলের মধ্যে ৩-৪ জনেরই কোনো জেলে কার্ড নেই। এর ফলে সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা নানা জটিলতার মুখে পড়েন। তাই কর্ডবিহীন প্রকৃত জেলেদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং কার্ডের তালিকা হালনাগাদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাছ ধরার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। মাঠপর্যায়ের তথ্যে দিনমজুরি কিংবা অটোীশা বা অটোরিকশা চালানোর মতো বিকল্প পেশার কথা উঠে এলেও, শারীরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক পুঁজির অভাবে সবাই চাইলেই এই পেশাগুলোতে যুক্ত হতে পারছেন না। তাই স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
জেলেদের জীবন কেবল নিষেধকালীন সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাও তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। তাই সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।