
হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়া একজিমার মতো চর্মরোগের চিকিৎসা নিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চিলমারি থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন ৬২ বছর বয়সী রাহেলা খাতুন। কিন্তু টিকিট কাউন্টার থেকে তাঁকে জানানো হয়, বহির্বিভাগে এই রোগের কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। পাঁচ টাকার টিকিট কেটে হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরে বেড়ানো এই বয়স্ক নারীর মতো চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কুষ্টিয়া ও আশপাশের জেলার অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী যেখানে ৭৮ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন, সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩৩ জন। অর্থাৎ ৪৫টি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের এই করুণ দশার কারণে নাক-কান-গলা, চক্ষু এবং চর্ম ও যৌন রোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত বিভাগগুলোর চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
শুধু বিশেষায়িত বিভাগই নয়, জরুরি বিভাগের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। নিয়ম অনুযায়ী জরুরি বিভাগে আটজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচার করার সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকটে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যেমন—পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন।
হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভর্তি থাকা রোগীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের দেখা পান দিনে মাত্র একবার। বাকি সময় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য তাঁদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের ওপর। বহির্বিভাগেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা না পেয়েই ফিরে যেতে হয় রোগীদের।
চিকিৎসক সংকটের এই পরিস্থিতির বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, চরম সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাঁরা সাধ্যমতো সেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের বদলি ও পদোন্নতি পাওয়ায় জেনারেল হাসপাতালে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, অতীতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরাই জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ায় এবং চিকিৎসকরা পদোন্নতি পেয়ে সেখানে চলে যাওয়ায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে কর্মরত চিকিৎসকদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্থানীয় বড় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিজস্ব চিকিৎসক নিয়োগের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।