পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আবারও ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বক্তব্যের ওপর আর কেউ আস্থা রাখে না।
বৃহস্পতিবার ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলার পর শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনা এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির ঘটনাকে তারা ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় প্রচারণা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ এখনো বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি ভারত।
তার ভাষায়, “সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, পুরো অঞ্চলে পাকিস্তান এখন ‘নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশটির সেনাবাহিনী ক্রমেই রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিপজ্জনক।
কাশ্মীর ইস্যুতেও ভারতের সমালোচনা করেন আইএসপিআর প্রধান। তিনি বলেন, কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।
এছাড়া পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার দাবি, আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তও তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানের দাবি, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা কমেছে।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।