পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে এক অটোচালকের চোখে বালি ছিটিয়ে ও মারধর করে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (অটোরিকশা) ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত (৯ সেপ্টেম্বর ভোররাত) আনুমানিক ২:৪৫ মিনিটে ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ভাঙচুর মোড় এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী অটোচালক মোঃ রেজাউল প্রামানিক ঈশ্বরদী উপজেলার বড়ইচারা গ্রামের মৃত আবুল কাশেম প্রামানিকের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রেজাউল প্রামানিক তাঁর অটোরিকশা নিয়ে রূপপুর মোড়ে ভাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিউটি অ্যাপ্রন পরিহিত এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাঘইল ভাঙচুর মোড় যাওয়ার কথা বলে ৮০ টাকায় অটোরিকশাটি রিজার্ভ করে। ভাঙচুর মোড়ের সন্নিকটে পৌঁছালে যাত্রীবেশী ওই ছিনতাইকারী জানায়, “সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে আমার লোক অপেক্ষা করছে।” কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে ছিনতাইকারী চালককে ভাঙচুর মোড়ে ফিরে যেতে বলে। সেখানে অটোরিকশাটি ঘোরানোর সময় ছিনতাইকারী হঠাৎ তার পকেট থেকে বালি বের করে রেজাউলের চোখে ছিটিয়ে দেয় এবং তাকে মারধর করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
রেজাউল চোখে আঘাত পেয়েও প্রাণপণ চেষ্টা করে অটোরিকশার বাম্পার ধরে তা থামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। ছিনতাইকারী দ্রুত অটোরিকশাটি নিয়ে রূপপুরের দিকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় বাঘইল সাঁকোর মুখে এক নাইট গার্ড সন্দেহজনক গতিতে দূরে থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাই
গাড়িটি যেতে দেখে গাড়িতে আঘাত করে আটকানোর চেষ্টা করলেও ছিনতাইকারীকে থামানো সম্ভব হয়নি।
ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি ‘ডয়ডো বোরাক’ ব্র্যান্ডের (টিয়া ও সবুজ রঙ), যার পেছনে স্টিল হাফ-কাটা বাম্পার রয়েছে এবং এতে ৫টি ‘এশিয়া রকেট’ ব্র্যান্ডের ব্যাটারি যুক্ত ছিল। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ১,২০,০০০ (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা।
ঘটনার পর আহত চালক রেজাউল প্রামানিক ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে এবং স্থানীয়দের সাথে পরামর্শ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ ও চালকদের দাবি:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিউটি অ্যাপ্রন পরে এমন দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনায় স্থানীয় চালক ও সর্বসাধারণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, রূপপুর সাঁকোর মুখ থেকে উমিরপুর মতি সড়ক পর্যন্ত এলাকাটি বেশ নির্জন। মূল সড়কের পাশে প্রায় ১৫০ ফুট রেলওয়ের জায়গা থাকায় কোনো বাড়িঘর নেই। এই ফাঁকা ও নির্জনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধী চক্র একের পর এক অপরাধ সংঘটিত করে চলেছে। রাতের বেলায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদারসহ অবিলম্বে এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় চালক সমাজ।
এলাকাবাসী পুলিশ টহল দ্রুত বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।”
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।