কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত দেশের অত্যাধুনিক তেল খালাস ও পরিবহন অবকাঠামো—সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং (এসপিএম) প্রকল্প—দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প ২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো অপারেটর নিয়োগ জটিলতায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
এই প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্রে বড় তেলবাহী জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাস করে মহেশখালী হয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমার কথা থাকলেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে পুরো অবকাঠামো।
মহেশখালীতে নির্মিত ছয়টি বৃহৎ স্টোরেজ ট্যাংকে প্রায় দুই লাখ টন তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংকে ক্রুড অয়েল এবং তিনটিতে ডিজেল সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মজুত সক্ষমতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
বর্তমানে বড় জাহাজ থেকে তেল ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে রিফাইনারিতে নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এক লাখ টন তেল খালাসে যেখানে প্রায় ১১ দিন সময় লাগে, সেখানে এসপিএম চালু হলে একই কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবহনজনিত অপচয় ও পরিবেশ দূষণও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বছরে প্রায় ৯০ লাখ টন তেল খালাস ও পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
তবে অপারেটর নিয়োগে জটিলতাই প্রকল্প চালুর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে বিশেষ আইনে দরপত্র ছাড়াই পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল হওয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে, যা দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সময়ে এই প্রকল্প চালু থাকলে দেশের জন্য বড় সুবিধা হতো। এতে ব্যয় কমার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হতো।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এটি পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।