রাজধানীর মুগদায় সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া হেলেনার কিশোরী মেয়েকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই এনামুল হক মিঠু হেলেনাকে হাজির করেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে আদালত তা রেকর্ড করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার আরেক অভিযুক্ত হেলেনার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫–এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান আবেদন মঞ্জুর করেন।
নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকায়। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মুগদার মান্ডা এলাকায় হেলেনার বাসায় ওঠেন। পরে তাঁর মরদেহের সাত টুকরা মান্ডা এলাকা থেকে এবং মাথা মানিকনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে হেলেনা এবং তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, মোকাররম মিয়ার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী তাসলিমা আক্তারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মোকাররম বিয়ে ও টাকা ফেরতের চাপ দিলে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে।
র্যাব-৩ এর ভাষ্যমতে, ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করতে গেলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ টুকরা করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
র্যাব আরও জানায়, হেলেনার দাবি ছিল মোকাররম তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।