রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন ও অপমানজনক আচরণ, কর্মপরিবেশ বিনষ্ট, ছুটি প্রদানে বৈষম্য, পক্ষপাতমূলকভাবে ডিউটি রোস্টার প্রণয়ন, রোগী ও স্বজনদের সামনে সহকর্মীদের অপদস্থ করা, ডি অ্যান্ড সি (D&C) কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখা থেকে মৃদুলা বিশ্বাসকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পত্র প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ২৯ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন, অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক আচরণ, কর্মপরিবেশ বিনষ্ট, ছুটি প্রদানে বৈষম্য, পক্ষপাতমূলকভাবে ডিউটি রোস্টার প্রণয়ন এবং রোগী ও রোগীর স্বজনদের সামনে সহকর্মীদের অপদস্থ করার কথা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের এমআর ও ডি অ্যান্ড সি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, হাসপাতালের ডায়েট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, স্টোরের চাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দায়িত্ব পালনে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণের অভিযোগও করা হয়।
এসব অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিলপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তকালে অভিযোগকারী নার্সরা তাদের লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, কর্মপরিবেশ বিনষ্ট এবং ডিউটি রোস্টার প্রণয়নে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এছাড়া মৃদুলা বিশ্বাস গাইনি কনসালট্যান্টের নির্দেশে ডি অ্যান্ড সি করতেন বলে দাবি করলেও তদন্তে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট গাইনি কনসালট্যান্ট দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নজরে আসার পর মৃদুলা বিশ্বাস এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত হন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও প্রতীয়মান হয়েছে, মৃদুলা বিশ্বাস ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দকৃত একটি কক্ষ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শোভন আচরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসা কর্মকাণ্ড একজন সরকারি কর্মচারীর জন্য শোভনীয় নয়। এসব কর্মকাণ্ড দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও পেশাগত অসদাচরণের সামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর আওতাভুক্ত অপরাধ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায়, তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়েও হাসপাতালের কয়েকজন নার্স ও স্টাফের সঙ্গে কথা বললে তারা মৃদুলা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ডিউটি ও ছুটি নিয়ে পক্ষপাতিত্ব এবং রোগী ও স্বজনদের সামনে সহকর্মীদের অপমান করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মৃদুলা বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।