1. njnaimofficial@gmail.com : Naim Sheikh : Naim Sheikh
  2. biswass443@gmail.com : Sumon Biswas : Sumon Biswas
  3. admin@rajbariexpress.com : Rajbari Express :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
  •                          

রাজবাড়ী এক্সপ্রেস ইপেপার

ঘোষণা:
জাতীয় অনলাইন গনমাধ্যম নীতিমালা আইনে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধন আবেদিত।

একদিনের জেদ থেকে ১৭ বছরের অভ্যাস, নিজের চুল নিজেই কাটেন বেরোবির মুজাহিদুল

বেরোবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৮ মোট পাঠক

নাপিতের দোকানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সিরিয়াল নেওয়ার ঝামেলা ভালো লাগত না। তাই প্রায় ১৭ বছর আগে নিজেই নিজের চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। সেই সিদ্ধান্তই এখন তার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের চুল নিজেই কাটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর ধরে চুল কাটাতে নাপিতের কাছে যান না মুজাহিদুল। আয়না সামনে রেখে নিজের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী নিজেই চুল কেটে নেন।

মুজাহিদুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মুজাহিদুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর আগে তিনি হাফেজি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। তখন সপ্তাহে শুক্রবারই ছিল ছুটির দিন। ওই দিন চুল কাটানোর জন্য স্থানীয় এক নাপিতের দোকানে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাননি। পরের সপ্তাহেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার পর নিজের চুল নিজেই কাটার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি।

তিনি বলেন, নাপিত কীভাবে কাঁচি ও চিরুনি ব্যবহার করেন, সেটা সেদিন খুব খেয়াল করেছিলাম। পরে বাজার থেকে একটি কাঁচি ও চিরুনি কিনে বাড়িতে গিয়ে আয়নার সামনে নিজে নিজে চেষ্টা শুরু করি। প্রথম দিকে অবশ্য ঠিকমতো পারতাম না।

শুধু নিজের চুল কাটার মধ্যেই থেমে থাকেননি তিনি। ধীরে ধীরে অন্যদের চুল কাটারও অনুশীলন শুরু করেন। একপর্যায়ে মাদরাসার সহপাঠী ও ছোটদের চুল কেটে দিতে দিতে দক্ষতা অর্জন করেন।

মুজাহিদুল বলেন, শুরুতে একজন ছোট ভাইয়ের চুল কাটতে গিয়ে বিপদে পড়েছিলাম। চুল ঠিকমতো কাটতে না পারায় সে আয়না দেখে কান্না শুরু করে দেয়। পরে ধীরে ধীরে অন্যদের চুল কাটতে কাটতেই অভিজ্ঞতা হয়ে যায়।

পরবর্তীতে তার চুল কাটার দক্ষতা দেখে একজন শিক্ষক তাকে পারিশ্রমিক নিয়ে চুল কাটার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি সহপাঠীদের চুল কেটে তিন টাকা করে নেওয়া শুরু করেন। পরে চাহিদা বাড়লে পাঁচ ও সাত টাকা করে নিতেন। সেই টাকা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নাশতা করতেন বলে জানান তিনি।

একসময় অন্যদের চুল কাটার পাশাপাশি নিজের চুলও নিজে কাটার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা হলেও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে আয়নার সাহায্য ছাড়াও নিজের চুল কাটতে পারেন বলে জানান তিনি।

মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে নিজের চুল কাটতে গিয়ে অনেক ভুল হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে আন্দাজ করে করে কাটার অভ্যাস হয়ে যায়। এখন নিজের চুল কাটতে আমার খুব বেশি সময় লাগে না।

তার সহপাঠী কারিমুল ইসলাম বলেন, মুজাহিদুল ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী ছিল। আমরা একসঙ্গে পড়ার সময়ও সে অনেকের চুল কেটে দিত। তখন থেকেই চুল কাটার প্রতি তার আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল। পরে সে নিজের চুল নিজেই কাটতে শুরু করে। এখন আয়না ছাড়াই নিজের চুল কাটতে পারে—বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরণের আরও খবর

© All rights reserved Rajbari Express © 2025

এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও

অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।