ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়ায় নিজ বাড়ীর পুকুরে মিলল সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৪) নামে এক শিশুর মরদেহ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন বাড়ির লোকজন। এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নিখোঁজ হয় সে। নিহত শিশু সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত মধ্যম চর ছান্দিয়ার মোজাফফর বাড়ির শেখ সাহাব উদ্দিন সজীব ও জান্নাতুল ফেরদৌস মনি দম্পতির মেয়ে।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে খুঁজে না পেয়ে বিকালে তার বাবার পক্ষ থেকে সোনাগাজী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকেও সন্ধ্যায় থানায় গিয়ে পৃথক আরেকটি জিডি করা হয়।
শুক্রবার ভোরে বাড়ির পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই পুকুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি। ফলে যে পুকুরে আগের দিন তল্লাশি চালানো হয়েছিল, সেখানেই পরদিন ভোরে মরদেহ ভেসে ওঠায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একই শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় বাবা ও মায়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি জিডি করার বিষয়টিও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। শিশুটির মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদৌস মনি
বলেন, বিয়ের ২মাস পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের
সাথে সম্পর্ক ভালো নেই। তারা আমাকে ফাঁসানোর জন্য শিশু কণ্যাকে হত্যা করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি ।
এ ব্যপারে নিহতের দাদা শেখ মুজিব বলেন, ‘ তদন্তে যার নাম আসবে তার বিচার হোক।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি আবুল হাসিম বলেন, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। থানায় মেয়ের মা যে সংবাদ দিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমরা একটি অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দুটি পৃথক জিডির বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঘটনাটি তদন্ত করা হোক এবং মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো কারণ থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
© All rights reserved Rajbari Express © 2025
এই নিউজ পোর্টালের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অথবা অডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যাবহার বে-আইনি।